ড. মোহাম্মদ ফারুক

মোহাম্মদ ফারুক; দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনে সুপরিচিত নাম। তিনি ‘অরচার্ড গ্রুপ”-এর চেয়ারম্যান। মোহাম্মদ ফারুকের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১ জুলাই চাটখিল উপজেলার নোয়াখোলা ইউনিয়নের অন্তৰ্গত হাটিরপাড়া গ্রামে এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি চাটখিল পাচগাঁও গুপ্ত হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মোহাম্মদ ফারুক নিজের যোগ্যতা, সততা, কর্মদক্ষতা ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে দেশে বেশ কিছু প্রথম শ্রেণীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ক্ষেত্রে অরচার্ড গ্রুপ ব্যাপক অবদানও রাখছে। মোহাম্মদ ফারুকের যে সকল ব্যবসা প্ৰতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী, ‘হোটেল অরচার্ড প্রাজা লিমিটেড’; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অরচার্ড সুয়েটারস লিমিটেড’; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অরচার্ড ডেভেলপার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’; ব্যবস্থাপনা ‘অরচার্ড এগ্রো পার্ক লিমিটেড’; ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরচার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ‘গালফ এভিয়েশন লিমিটেড’ ও ‘রয়েল এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেড’; প্রোপ্রাইটির, অরচার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ‘বেঙ্গল টেলিকম কোম্পানি লিমিটেড”।

ব্যবসা-বাণিজ্যে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকলেও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ড. মোহাম্মদ ফারুক সামাজিক কর্মকাণ্ডেও পিছিয়ে নেই। সমাজ সেবায় ইতোমধ্যে তিনি জাতীয় পর্যায়ে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছেন। সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্ৰাণ জনাব মোহাম্মদ ফারুক তার নিজ এলাকায় হাফেজ মোহাম্মদ ইসমাইল হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও খতিজা জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা, চাটখিল আলীয়া মাদ্রাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক, কড়িহাটি হাইস্কুল চাটখিল, সোমপাড়া কলেজ, চাটখিল মহিলা কলেজ, সিংবাহুড়া গার্লস স্কুলের দাতা সদস্য। তিনি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) এবং এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য । তিনি লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি ৩-এর ১৯৯৭– ১৯৯৮ সালের ডিস্ট্রিক্ট গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. মোহাম্মদ ফারুক লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বাংলাদেশের ১৯৯৮-১৯৯৯ সালের কাউন্সিল চেয়ারম্যান পদে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গুলশান ক্লাবের স্থায়ী সদস্য, কুর্মিটােলা গলফ উদ্যোক্তা সদস্য ও ভাইস প্রেসিডেন্ট; প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট এবং আহবায়ক হজ্ব এজেন্সিন্জ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ।
ড. মোহাম্মদ ফারুক ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ৫ বার এবং ২০০০ সালে ১ বার মোট ছয় বার কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যিান্ট পারসন-সিআইপি সম্মানে ভূষিত হন। সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য জনাব মোহাম্মদ ফারুক ১৯৯২ সালে “অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক’, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সাহিত্য সংসদ কর্তৃক স্বর্ণপদক এবং সম্মানজনক লায়ন্স পদক লাভ করেন। ড. মোহাম্মদ ফারুকের সহধর্মিণী ইয়াসমিন আক্তার নিজস্ব গ্রুপ অব কোম্পানির অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দম্পতি ৫ পুত্ৰ সন্তানের জনক-জননী । লায়ন মোহাম্মদ ফারুক বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, গ্ৰীস, সৌদি আরব, ইউএই, দক্ষিণ কোরিয়া, সিংগাপুর, হংকং, থাইল্যান্ডসহ বহু দেশ ভ্ৰমণ করেন । বই পড়া ও গাছ লাগানো তার অন্যতম শখ|

Developed by : M. Masud Alam