চাটখিলে ভোটের হাওয়া: পৌরসভা নির্বাচনে শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর দৌঁড়ঝাঁপ শুরু

মাইনউদ্দিন বাঁধন:: চাটখিলে ভোটের হাওয়া, আসন্ন চাটখিল পৌরসভা নির্বাচন। চাটখিল পৌরসভায় মোট ৯টি। প্রতিটি ওয়ার্ডে পুরাতন ও নতুন মিলে একাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিল প্রার্থী রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু, সামাজিক অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন আভাস পাওয়ার পর সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। ‘অমুক ভাইকে কাউন্সিলর পদে দেখতে চাই, অমুক ভাই কাউন্সিলর হলে এই ওয়ার্ডের ভাগ্য বদলে যাবে।’ এমন ব্যানার, ফেস্টুন এবং পোস্টার ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে চোখে পড়ছে। শুরু হয়ে গেছে প্রাক নির্বাচনী উৎসব। কোন কোন ওয়ার্ডে শুধু আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ডজন ছাড়িয়ে যাবে। মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রার্থীরা এখনো সেভাবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যানার পোস্টার লাগাচ্ছেন না। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদেরকে নানাভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। পাড়া এবং এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাব এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলো মিলাদ মাহফিল, পিকনিক, ক্রিকেট, ফুটবল এবং ব্যাডমিন্টনের নানা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে এসব সম্ভাব্য প্রার্থীদের স্পন্সর এবং অতিথি হিসেবে তাদেরকে প্ল্যাটফর্ম করে দেয়ার চেষ্টা করছে।


কোন কোন ওয়ার্ডে শুধু আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ডজন ছাড়িয়ে যাবে। মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রার্থীরা এখনো সেভাবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যানার পোস্টার লাগাচ্ছেন না।


পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের। ক্ষমতাসীন এই দলের ইউনিট, ওয়ার্ড এবং থানা পর্যায়ের অসংখ্য নেতা নিজেদেরকে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। উপস্থিত হচ্ছেন নামাজে জানাজা থেকে শুরু করে বিয়ে, মেহেদি অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে। যদিও কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। তবুও দলীয় সমর্থনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। নতুন সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই ধরনের তৎপরতা বর্তমান কাউন্সিলরদের ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়া গত নির্বাচনে যেসব কাউন্সিলর প্রার্থী হেরে গেছেন এবং যারা আগে কাউন্সিলর ছিলেন কিন্তু গতবার নির্বাচন করেননি কিন্তু এবার করার ইচ্ছাপোষণ করেছেন তারাও জোরালোভাবে মাঠে নেমেছেন।

তাই এবারো চাটখিল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে কোন কোন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ডজন ছাড়িয়ে যাবে।

জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহসান হাবীব সমীর বলেন, বর্তমানে তাঁর ওয়ার্ডে ১৫টি ছোট বড় সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। আরো কিছু কাজ কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে। সবমিলিয়ে প্রায় ছোট বড় অনেক কাজ হচ্ছে। যা এই ওয়ার্ডের জন্য ইতিহাস। তিনি জানান, এনিয়ে তিনি চারবার নির্বাচন করেছেন, চারবারই তিনি নির্বাচিত হয়ে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্ত এবারের মত উন্নয়ন অতীতে আর কখনো হয়নি। আসন্ন নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আছে উল্লেখ করে বলেন, এলাকার উন্নয়ন কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজও করতে চান তিনি।

পৌরসভার জামায়াত সমর্থীত ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল আহমেদ চাটখিলবার্তাকে জানান, ‘চাটখিল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডবাসী আমাকে নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমি একদিনের জন্যও জনবিচ্ছিন্ন হইনি। সেবক হিসেবে তাদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে চেষ্টার বিন্দুমাত্র ত্রুটি ছিল না। যেহেতু আমার ওয়ার্ডটি অনেক বড়, কাজের পরিধিও বড়। এক সময়ের অবহেলিত এই ওয়ার্ডের কোথায় কি পরিবর্তন হয়েছে তা ওয়ার্ডবাসী ভালভাবেই জানেন। সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কাজ করার চেষ্টা করেছি। আর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। ওয়ার্ডবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। আমার কাজের মূল্যায়ন ওয়ার্ডবাসী করবেন এটাই প্রত্যাশা করি।

১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল খায়ের বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে তাদের সেবা দিয়েছি। তারাই মূল্যায়ন করবেন। আগামি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি তার আছে বলে জানান।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে চাটখিল পৌরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তারা কাজ করছেন। নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে বলা আছে, নির্বাচিত পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভার পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণের দিন থেকে ১৮০ দিন আগে পর্যন্ত যে কোনোদিন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

Developed by : M. Masud Alam