চাটখিলে অল্প বৃষ্টিতেই তছনছ একাধিক সড়ক!

স্টাফ রিপোর্টার:: সারা দেশের মত চাটখিল উপজেলায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কখনো টানা বৃষ্টি আবার কখনো অতিবৃষ্টি কখনো ভারি বৃষ্টি সংগঠিত হয়ে থাকে

চাটখিল পৌরসভার ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডের সংযোগ সড়ক। ছবি-চাটখিলবার্তা

। এইবারের প্রায় টানা দেড় মাসের বৃষ্টি ও বন্যায় ভেঙে পড়েছে চাটখিল উপজেলা ও পৌরসভার অনেক গুলো সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। কোথাও পানিতে নিমজ্জিত অধিকাংশ সড়কের বিটুমিন উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। বৃষ্টির জমা পানিতে যেন ‘পাউডারের মতো ধুয়ে গেছে’ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিটুমিন। এতে চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক থাকলেও মালামাল নিয়ে পায়ে হেঁটে এক জায়গা থেকে অন্যত্র যেতে হচ্ছে মানুষকে। মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিন দেলিয়াই হাসিমিয়া দাখিল মাদ্ররাসা সংলগ্ন রাস্তা এটি । ছবি-ফেইজবুক

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু বন্যা নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিটুমিন উঠে খোয়া বের হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা তৈরি বা সংস্কারের কিছুদিন না যেতেই অনেক স্থানে খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে। ঠিকাদার অধিক মুনাফার লোভে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণেই সড়কের এমন বেহালদশা বলে ধারণা তাদের। এদিকে সামান্য বন্যার পানি নামার পর কৃষি থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও এখনো ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ কোথাও দেখা যায়নি। এতে সহসাই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন না চাটখিল উপজেলা ও পৌরসভার মানুষ। অনেক স্থানে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভাঙাচোরা সড়ক এবারের বৃষ্টিতে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কোথাও ২০১৭ সালের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ২০২০ সালে এসেও মেরামত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-ব্রিজ-কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে। হিসাব শেষে সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে। আবার কখনো বলা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সড়ক সংস্কার শুরু হবে। চাটখিলের স্থানীয় বাসিন্দরা জানান, চাটখিলে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বন্যায় চরম দুর্ভোগের পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে শুরু করেছে বন্যার্তরা। তবে বন্যার তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়া ক্ষত-বিক্ষত সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তার বিটুমিন উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ভাঙা সড়কে মানুষের সহায়তায় কিছু যানবাহন হেলে-দুলে চললেও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রী নিয়ে উল্টে যাচ্ছে ছোটখাটো যানবাহন। পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই থাকে মৃত্যুর শঙ্কা।

Developed by : M. Masud Alam