করোনায় চাটখিলে থামেনি বিবাহ কমছে বিচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের মূল কারণ হলো জন জামায়েত। জন জামায়েত যাতে না করা হয় সে কারণেই বাংলাদেশ সরকারের আদের্শে যে কোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান ও জমায়েতের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মহামারীতে দেশে সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকলেও চাটখিলে কেউ কেউ লুকিয়ে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিয়ে করে শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর যে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল মহামারীর কারণে তাদের অনেকে বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে। হাতেগোনা কয়েকজন আবার ঘরোয়া পরিবেশে নিকট আত্মীয়দের উপস্থিতি বিয়ে করছেন।
সরকারের নির্দেশে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় বর্তমানে চাটখিলে নিকাহ রেজিস্ট্রাররা (কাজী) কিছুটা অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাটখিলের একটি ওয়ার্ডের কাজী অফিসে করোনা সংক্রমণের আগে প্রতি মাসে গড়ে ৫-১০টি বিয়ে পড়ানো হতো। মহামারীর কারণে সরকারি সব অফিস-আদালত বন্ধের পাশাপাশি সব ধরনের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রি (নিবন্ধন) বন্ধ রাখা হয়। এতে বিয়ের হার কমে এলেও তা একবারে বন্ধ হয়ে যায়নি।
চাটখিলবার্তাকে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একজন বলেন, করোনার কারণে বর্তমানে কমিউনিটি সেন্টার ও বাড়িতে বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ আছে। তবে ঘরোয়া বিয়ের আয়োজনে অনেকেই নিয়ে যেতে চান। আমরা সেখানে যেতে মানা করি এবং এ মহামারীর সময় বিয়ের আয়োজন নিরুৎসাহিত করি। তিনি জানান, লকডাউনের পর গত ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে বিয়ে পড়ানোর কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাটখিলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেলেও দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে বিচ্ছেদের হারও কমে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক মাস তালাক রেজিস্ট্রি বন্ধ রাখার কারণসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিচ্ছেদের হার কমে যায়। তথ্য অনুশারে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিচ্ছেদের হার বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে এ সংখ্যা কমে আসে।
তবে করোনায় মানুষকে এমন সিস্টেম মানিয়ে নেওয়াকে দীর্ঘস্থায়ী বলা না গেলেও মধ্যস্থতার মধ্যদিয়ে যদি কোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করা যায় তবে সেটি ইতিবাচক বিষয়।

Developed by : M. Masud Alam